গ্রামের সবুজ ছায়া ছেড়ে শহরে আসাটাই এক রূপকথার গল্প, একটি ভালো চাকরি, একটি সুন্দর ফ্ল্যাট আর একটু স্বাচ্ছন্দ্য! কিন্তু ইট-পাথরের এই শহর আমাদের যা দিচ্ছে, তার চেয়ে বেশি কেড়ে নিচ্ছে না তো? নগর জীবন কিন্তু মন্দ নয়। জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, নতুন নতুন চাকরির সুযোগ আর হাতের মুঠোয় ফাইভ-জি ইন্টারনেট, সব মিলিয়ে জীবন চলেছে রকেটের গতিতে।

কিন্তু এই প্রাপ্তির খেসারতও কম নয়!
পাশের ফ্ল্যাট যেন অচেনা দ্বীপ। বছরের পর বছর পাশাপাশি থেকেও আমরা পাশের বাসার মানুষকে চিনি না। আমাদের শৈশবের খোলা মাঠ আর পুকুরের সাঁতার আজ হারিয়ে গেছে; বাচ্চাদের শৈশব এখন আটকে আছে ৫ ইঞ্চির মোবাইল স্ক্রিনে। মানুষের মনখোলা আড্ডা এখন উধাও, ভালোবাসার গভীরতা মাপা হয় ফেসবুকের ‘লাইক’ আর ‘লাভ’ ইমোজিতে!

সকালে উঠেই জ্যামের সাথে যুদ্ধ, ধূলিকণা খাওয়া, অফিসে খাঁটুনি আর রাতে একটু শান্তির ঘুমের জন্য ওষুধের ওপর নির্ভরতা। এই হলো আমাদের অবস্থা! টাকার পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবন উপভোগ করতেই আমরা ভুলে যাচ্ছি।

করণীয়ঃ

শহরকে মানবিক করতে সরকার নয়, আমাদেরকেই হাত বাড়াতে হবে:
১. দরজা একটু খুলুন: পাশের ফ্ল্যাটের মানুষটিকে দেখে এটলিস্ট একটা মৃদু হাসি দিন!
২. একটু সবুজ আনুন: বারান্দা বা ছাদে দুটো গাছ লাগান এবং ময়লা সঠিক জায়গায় ফেলুন।
৩. বাচ্চাদের সময় দিন: স্ক্রিন থেকে সরিয়ে ওদের বই পড়া ও প্রকৃতির ছোঁয়া দিন।
৪. ধৈর্য ধরুন: ট্রাফিক আইন মানুন এবং অযথা হর্ন বাজানো বন্ধ করুন।

শেষ কথা
ইট-কাঠের ভবন দিয়ে তো আর শহর তৈরি হয় না, শহর তৈরি হয় মানুষ দিয়ে। চলুন ব্যস্ততার মাঝেও একটু ভালোবাসা আর সমবেদনা বাঁচিয়ে রাখি, যাতে এই কংক্রিটের জঙ্গলটা আমাদের সত্যি শান্তির নীড় হয়ে ওঠে!