জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির জেরে উত্তাল হয়ে ওঠা ফ্রান্সে চলমান দাঙ্গা ও সহিংসতা বড় ধরনের আঘাত হেনেছে দেশটির আবাসন, বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও জনজীবনে। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারির পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য। চলমান এই সহিংসতায় বিভিন্ন বহুতল ভবন, সরকারি স্থাপনা, গাড়ি এবং দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।

থমথমে প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে কড়াকড়ি
বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ায় ফ্রান্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের জনপদ ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে:
প্যারিস: রাজধানীর কেন্দ্রস্থল প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও ব্যস্ততম লে আল (Les Halles) শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ রয়েছে।

অন্যান্য শহর: মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ এবং লিলের মতো প্রধান শহরগুলোতেও বিভিন্ন মাত্রার বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ফ্রান্সজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নেন। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জনসেবার অবনতির ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে সহিংস রূপ নেয়।

আবাসন ও বাণিজ্যিক খাতে নজিরবিহীন ক্ষতি
ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, চলমান এই দাঙ্গায় দুই হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাসিক এলাকার আশপাশের দোকানপাট, বিপণন বিতান ও জনবহুল ভবনে ভাঙচুর চালানোয় নাগরিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধারে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও আবাসন খাত পুনরুদ্ধারে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই সহিংসতার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়াও হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।