ছুটিটা কাটানোর কথা ছিল আনন্দে, হাসিতে আর নতুন স্মৃতির আলোয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন নুর আলম। কে জানত, সেই আনন্দভ্রমণই তার জীবনে নামিয়ে আনবে এক অচেনা ও অসহনীয় অন্ধকার!

চাকরির সুবাদে চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘ আট বছর ধরে স্ত্রী ফারিহা কবির ও একমাত্র ছেলে ফায়ারিজান আহমেদকে নিয়ে বসবাস করছিলেন নুর আলম। ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এই মেডিকেল প্রমোশন অফিসার বুধবার স্ত্রী, সাত বছরের ফুটফুটে ছেলে, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন কক্সবাজারে। অফিসের তাগিদে শুক্রবার তিনি একা চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসলেও, শনিবার পরিবারের সবার একসঙ্গে ফিরে আসার কথা ছিল।

কিন্তু শনিবারের সকালটি নুর আলমের জন্য নিয়ে এল এক বজ্রপাতসমান সংবাদ। কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চিরতরে নিভে গেছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুটি আলো—স্ত্রী আর আদরের সন্তান। সঙ্গে হারিয়েছেন তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককেও। একটি ফোনকল নিমেষেই তছনছ করে দিল সাজানো সংসার।

আজ শনিবার চুয়াডাঙ্গার সেই ভাড়া বাসায় তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। প্রতিবেশীরা প্রস্তুত ছিল চেনা মুখগুলোর হাসিমুখ দেখার জন্য। কিন্তু আজ সেই তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের দরজায় ঝুলছে কেবল একটি নিস্তব্ধ তালা। যে ঘরে প্রতিদিন ছোট্ট ফায়ারিজানের দুরন্তপনা আর স্ত্রীর স্নিগ্ধতায় মুখর থাকত, আজ সেখানে কেবল কান্নার রোল আর ভারী হয়ে থাকা শূন্যতা।

প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছোট্ট ফায়ারিজানের বই-খাতাগুলো আজও গোছানো আছে, শুধু নেই সে নিজে। না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো প্রিয় মানুষগুলোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া নুর আলম এখন ঢাকার উদ্দেশে ছুটছেন। শূন্য হাতে, বুকভাঙ্গা ব্যথা নিয়ে তিনি আজ একা—যেখানে ফেরার কথা ছিল আনন্দের বহর নিয়ে, সেখানে আজ কেবলই দীর্ঘশ্বাস।