পার্বত্য জেলা রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পিকেটিং, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাহাড়ে গোলাগুলির মতো থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাকে এই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল থেকেই বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় অবরোধকারীরা। এর আগে থেকেই সাজেকে আটকে ছিলেন প্রায় ২ হাজার ৯ ৩৩ জন পর্যটক। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ পাহারায় পর্যটকদের গাড়িবহর খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হলে বাঘাইহাটের উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথবাহিনীর সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। একই সময়ে সাজেকের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দুটি সশস্ত্র আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যেও দফায় দফায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দালানকোঠাকে জানান, পর্যটকদের গাড়িবহর আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে ইটপাটকেল ছুড়লে তা প্রতিহত করে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পাঠায় যৌথবাহিনী।
সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সাজেকে থাকা সব পর্যটককে বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে কাউকে সেখানে ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অবরোধের মূল কারণ
এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক ছেড়ে চলে যাওয়াসহ ৩ দফা দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। এর আগে গত ১১ ও ১৫ অক্টোবর একই দাবিতে অবরোধ পালন করা হলেও দুর্গাপূজা ও প্রশাসনের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় মাঠে নেমেছে সংগঠন দুটি।



মন্তব্য করুন