বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একমাত্র রাজনৈতিক দল যা সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।
গতকাল বিকেলে মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-১৫ আসনের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রাহকদের অবহিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত একটি বিশেষ উপহার। এটি জনগণের কল্যাণেই প্রবর্তন করা হয়েছে। সুতরাং ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য বিএনপিই সংগ্রহ করবে, অন্য কেউ নয়।”
সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে প্রশাসক বলেন, “অনেকেই ফ্যামিলি কার্ডের ২৫০০ টাকা নিয়ে নানা কথা বলেন। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই—কারো যদি সাহস থাকে তবে এর চেয়ে বেশি অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করে দেখাক। অনেকেই কেবল বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু কাজের বেলায় কাউকে পাওয়া যায় না। একমাত্র বিএনপিই রাজপথে থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করে।”
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা অপপ্রচারের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দলের ভেতরে বা বাইরে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ যদি বিভ্রান্তি ছড়াতে চায় কিংবা অনিয়মের চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই প্রকৃত ও যোগ্য প্রতিটি পরিবার কোনো বৈষম্য ছাড়াই এই সুবিধার আওতায় আসুক।”
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ১ হাজার ৯১৭ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক সরাসরি মাঠে থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো ‘গুপ্ত দল’ বা অশুভ শক্তি যদি মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন তারাই পাবেন যারা দিনরাত জনগণের পাশে থাকবেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নে যাদের অবদান থাকবে, তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে। জনবিচ্ছিন্ন কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।”
নগরবাসীর উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মোঃ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রধান সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করা হবে। পথচারীদের হাঁটার জন্য একটি নান্দনিক, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন ফুটপাত নগরবাসীকে উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিষয় :



মন্তব্য করুন