টেকসই আবাসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সীমিত আয়ের মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি। তিনি বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আবাসন কেবল একটি দালানকোঠা নয়; এটি নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদা ও পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণপূর্তমন্ত্রী জানান, বিপুলসংখ্যক মানুষের শহরমুখী স্রোতের কারণে সীমিত জমির বিপরীতে আবাসনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। একদিকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিজমি রক্ষা, অন্যদিকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ বাস্তবতায় জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত, নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, দেশের নগর ও অঞ্চলগুলোকে পরিকল্পিত, উৎপাদনশীল এবং পরিবেশবান্ধব বাসযোগ্য এলাকায় রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান:
দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান: কৃষি, শিল্প, আবাসন ও সবুজ এলাকার জন্য নির্দিষ্ট জোন চিহ্নিত করে দেশের সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলায় দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও উর্বর কৃষিজমি অপরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে সুরক্ষা পাবে।
সেকেন্ডারি সিটি ও আঞ্চলিক উন্নয়ন: ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সেকেন্ডারি সিটিগুলোকে রিজিওনাল গ্রোথ সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষা ও আধুনিকায়নে ‘পুরোনো ঢাকা রিভাইটালাইজেশন’ এবং ‘ঢাকা আরবান রিজেনারেশন’ শীর্ষক বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
কম আয়ের মানুষের আবাসন: বস্তিবাসী ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পরিকল্পিত আবাসন সুবিধা দিতে ‘৩৬ জুলাই আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প’-এর কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ইনস্টিটিউট ও রেগুলেটরি অথরিটি গঠন: ভূমিকম্প ও দুর্যোগ মোকাবেলায় ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিইএসআরআই)’ এবং নিরাপদ ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ)’ গঠন করা হয়েছে।
সেবা ডিজিটালাইজেশন ও নতুন কর্তৃপক্ষ: রাজউকসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এখন সম্পূর্ণ অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।
এছাড়াও সবুজ নগরায়ণ, পার্ক-লেক উন্নয়ন, খেলার মাঠ প্রস্তুত এবং আধুনিক বর্জ্য ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সবশেষে মন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন খাতসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিবেশ সুরক্ষা ও মানসম্মত নির্মাণকাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।